Tuesday, 15 March 2011

ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে

ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

শান্তি কুঞ্জে একলা ঘুরতে,

ক্লান্ত মনকে চাঙ্গা রাখতে

ইচ্ছে করছে মন্ত্র হাঁকতে।


ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

অষ্টেপৃষ্ঠে রাংতা মুড়তে,

ভ্রান্ত মগজ শিষ্ট রাখতে

ইচ্ছে করছে নক্সা আঁকতে।


ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

নখর শানিয়ে চক্ষু কুরতে,

আদ্যোপান্ত জ্যান্ত রাখতে

ইচ্ছে করছে ইষ্ট ডাকতে।


ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

পদ্য গদ্য বাক্সে পুরতে,

শ্রান্ত কলম সতেজ রাখতে

ইচ্ছে করছে মণ্ডা মাখতে।


ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

মাংসপিণ্ডে অণ্ড জুড়তে,

শান্ত সত্তা তুঙ্গে রাখতে

ইচ্ছে করছে লঙ্কা চাখতে।


ইচ্ছে করছে, এই মুহূর্তে,

ভণ্ড মুণ্ডে শাপটা ছুঁড়তে,

কান্ত দীপ্তি গুপ্ত রাখতে

ইচ্ছে করছে সুপ্ত থাকতে।।

Thursday, 10 March 2011

কেষ্ট কেষ্ট!!!

এই রাধাদি, চুল না বাঁধি,
আয় দেখে যা নখরা,
আল-পাতাড়ি মারছে ঝাড়ি
বিচ্ছিরি এক ছোকরা!

নন্দলালা, কালচে পোলা,
নাম শুনেছি কেষ্টা,
খোশমেজাজী, দুষ্টু পাজি,
জ্বালিয়ে খেলে দেশটা!

রাত থেকে দিন তাধিন তাধিন
মাঠ ঘাটেতে চরছে,
হংস মুনি, দাই, গোপিনী,
সবাই ত্রাসে মরছে!

বনবাদাড়ে, জলার ধারে,
সাপ খুঁজে যায় নিত্য,
যেই না ধরে সমুদ্দুরে,
ফনায় চেপে লেত্য!

ওমনি আবার আড়বাঁশী তার
মারবে সুরের গোঁত্তা,
রূক্মিনী আর সত্যভামার
নাড়িয়ে দিল সত্তা

কংশ দমন, রাধার রমন,
বিষ্ণু রূপী শক্তি,
উল নামিয়ে, চুল কামিয়ে
মেম সাহেবের ভক্তি!!

ঝড়

ঝড় উঠেছে, ঝড় উঠেছে,

উড়ছে ধুলো চারদিকে,

গাছের মাথায় মত্ত নাচন,

ঘুরছে পাতার চামচিকে!


আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে,

লালচে দেহে কালচে শাল,

কাক পাখি সব পালিয়ে গেছে,

শূন্য বাসা টালমাতাল!


গড়্গড়িয়ে বাজ পড়ে যায়,

মারছে ঝিলিক বিদ্যুতে,

আঁধার ছিঁড়ে হঠাৎ আলোয়

নাচছে ছায়া বিদ্ঘুটে!


ঘরের ভেতর দমকা হাওয়ায়

মোমবাতিটাও চমকালো,

দেওয়াল ধরে নৃত্য জোড়ে

ভূতের খেলা, জমকালো!



ঝড় উঠেছে মনের কোনেও,

হৃদয় ব্যাপী স্পন্দনে,

নীল শাড়িতে হঠাৎ সেদিন

তোমায় দেখে নন্দনে!


আপন বাপন, চৌকি চাপন,

রক্ত কাঁপন, থর্‌-থরে,

গোঁত্তা মেরে সত্তা জুড়ে

চিন্তা তোমার ভর করে!


স্বপ্নে তোমার মগ্ন হয়ে

নোখ খুঁটে যাই প্রাণপনে,

লজ্জা লাগে, রূপ দেখি তাই

আড়চোখেতে আনমনে!


ঝড় বয়ে যায় দাপিয়ে নাড়ি,

বাইশ ক্যারাট খাদ বিহীন,

ঝড় বয়ে যায় ভিতর বাহির,

একনাগাড়ে, রাত্রি দিন।।

একটা “পিকিউলিয়ার’ লোক ছিল

আহা, কি সুন্দর একটা পিকিউলিয়ার লোক ছিল,
অবশ্য, তারও মাথার টাক, গায়ের লোম আর আঙ্গুলের নোখ ছিল,
আর নাকের ওপর দু-দু খানা চোখ ছিল,
আর আরো সব নর্মাল জিনিসপত্তর .. উম .. ইয়ে .. যাই হোক ছিল

আহা, কি সুন্দর একটা পিকিউলিয়ার লোক ছিল,
সে সাহেব কিনা, তাই তার আত্মীয় ছিল না, কেবল কিন-ফোক ছিল,
তার সরবত ভাল লাগতো না, তার পছন্দ কোক ছিল,
আর স্টার আনন্দ ছেড়ে বি বি সি-র দিকেই চোখ ছিল

আহা, কি সুন্দর একটা পিকিউলিয়ার লোক ছিল,
তার আবার গানের প্রতি ভীষণ, ভীষণ ঝোঁক ছিল,
যদিও গলাতে কোকিলের সুর নয়, কোলাব্যাঙ্গের ক্রোক ছিল,
তাই ওরা বলতো ওগুলো গান নয়, ওগুলো জোক ছিল

আহা, কি সুন্দর একটা পিকিউলিয়ার লোক ছিল,
সেদিন দেখি লেনিনের মূর্তির পাশে লালটুকটুকে লেংটি পরে বিড়ি ফোঁকছিল,
আর ক্রমাগত আল ফাল বকছিল,
তাই মার শালাকে বলবার জন্যেও আসে পাশে বেশ কিছু ছিনে জোঁক ছিল!

আহা, কি সুন্দর একটা পিকিউলিয়ার লোক ছিল,
কিন্তু রামের প্রতি তার যে বেশী মাত্রায় ছোঁক ছোঁক ছিল,
তাই লিভার গেল পচে (কি আর করা, বৌয়ের কপালে শোক ছিল),
আর তার কপালেও সগগো নয়, নরক ছিল

বাবাঠাকুর

ইন্ডিয়াতে

পৈতে হাতে

ঘুরছে কত ভণ্ড,

তাদের তুমি

চরণ চুমি

চ্ছ অপগণ্ড!


হাজার বাবার

আশিস পাবার

জন্য ছোটো নিত্য,

ভণ্ড বাবা

মারছে থাবা,

তাতেও ভরে চিত্ত!


অড়ং ভড়ং

মন্ত্র পড়ং,

শ্লোক আসে না চাইতে,

ছিরিক ছিরিক,

হচ্ছে ম্যাজিক,

দিল দিওয়ানা তাইতে!


দক্ষিণেতে

লীলায় মেতে

ঘুচিয়ে দিয়ে সন্দ,

টিপছে নাড়ি,

টানছে শাড়ি

নিত্য বাবা নন্দ!


তারই দেওয়া

নকল মেওয়া

সবুর ছাড়াই ফলছে,

ডাকছ বাবা,

বনছ হাবা,

আনন্দে মন গলছে!


টাটকা তাজা

বাবার গাঁজা

হুশপুশিয়ে ফুঁকছ,

দুহাত ভরে

আংটি পরে

ওমনি আবার ধুঁকছ!


তবুও বাবার

ফান্ডে খাবার,

দিচ্ছ ঢেলে, চাপড়ে!

পাশেই কাকা

গুণছে টাকা,

আই মেরি মা বাপ রে!


দেখছি সবাই

হচ্ছে জবাই,

পাচ্ছে ঘোড়ার অণ্ড,

আমিও তো তাই

ভাবছি সদাই

সাজবো এবার ভণ্ড!

আরে রসুন না, কোথায় যাবেন?

উঠল বাই তো কটক যাই!

আজকে কোথায় টিকিট পাই?

কালকে যাবেন ইষ্টিশান,

দেখুন যদি টিকিট পান।


তাও যে খানিক ভাবনা হয়,

হোথায় আবার নান পোড়ায়,

যদিও আপনি নান তো নন,

সামান্য এক ভদ্র জন,


তবুও যদি পুড়িয়ে দেয়?

কে আর অমন ঝক্কি নেয়?

তারচে বরং জিরিয়ে নিন,

আরাম করুন কয়েক দিন।


আবার যাবেন দার্জিলিং?

নেই বুঝি আর সেই ঘিসিং?

তবুও তো বেশ গণ্ডগোল,

হোথায় যাবে কোন পাগল?


কিমবা যাবেন সোঁদরবন?

মানুষখেকোয় টানছে মন?

রায় বাবুতে পাকড়ালে

চিবিয়ে খাবে আবডালে!


তারচে বরং স্নান সেরে

মাংস দিয়ে ভাত মেরে

আরাম করে, ভরপেটে

ঘুমিয়ে পড়ুন কার্পেটে!!